...

জ্বীন যাদুগ্রস্ত পেশেন্টদের রমাদান মাসের করনীয় “

রমাদান মাসের শেষ দশকে যাদু রিনিউ হয় বেশি, আর সে সময়ে বহু পেশেন্টের সমস্যা অনেক বেড়ে যায়। আবার কিছু পেশেন্টের সমস্যা সে রমাদানের প্রথম থেকে শুরু হয়ে যায়, সেজন্য পেশেন্টদের সতর্ক থাকতে হবে। নিয়ত করতে হবে পুরো রমাদান মাসটি আমি ইবাদতে অতিবাহিত করবো। এর বদলে মহান আল্লাহ তাআলা আমাকে পূর্ন সুস্থতার নিয়ামত দান করবেন।

রমাদান মাসে এই আমল গুলো বাধ্যতামূলক করে নিবেন নিজের জন্য।

১/ফরজ সালাত –

 
সালাত এর ব্যাপারে কোনো রকমের কোনো অনিহা প্রকাশ করা যাবেনা। বহু মানুষ আছেন যারা সারা দিন রোযা রাখেন ঠিকিই কিন্তুু নামাজ পড়েনা। এই জাতীয় অনিহা অন্তর থেকে ধুয়ে মুছে দিতে হবে এবং পূর্ন নিয়ত করবেন ইনশাআল্লাহ্ ৫ ওয়াক্ত সালাত যর্থাথ ভাবে যথা সময়ে আদায় করবো, পুরুষ হলে অবশ্যই জামাতের সাথে আদায় করবেন। এবং সর্বউচ্চ চেষ্টা করবেন তাকবির ওয়ালা অর্থ্যাৎ প্রথম তাকবিরের সাথে জামাতে নামাজ আদায় করবেন। ৫ ওয়াক্তের ফরজ নামাজের সাথে সুন্নাহ নামাজ গুলো সঠিক ভাবে আদায় করবেন, এবং তারাবীহ্ এর নামাজে কোনো ভাবে অবহেলা করার অবকাশ নেই। বরং গুরুত্বের সাথে পুরো মাস তারাবীহ এর নামাজ আদায় করবেন ইনশাআল্লাহ্……

২/ – কিয়ামুল লাইল – তাহাজ্জুদ নামাজ

জ্বীন যাদুগ্রস্ত পেশেন্টদের জন্য পবিত্র রমাদান মাসে, মহান আল্লাহ্ তাআলার সাথে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলার উত্তম ও মুক্ষম সময় হলো এই রমাদানের কিয়ামুল লাইল – তথা তাহাজ্জুত নামাজ । আর এই নামাজে সিজদায় পড়ে আল্লাহর নিকট যতবেশি দুআ করবেন কান্না করবেন, তত দ্রুত মহান আল্লাহ তাআলা আপনাকে সুস্থতার নিয়ামত দান করবেন ইনশাআল্লাহ্! কেননা এই শেষ রাতে মহান আল্লাহ তাআলা তাহার বান্দা বান্দীদের দুআ কে কবুল করেন। আর এই বিষয়ে নবী করিম সাঃ হাদিস থেকে বহুল প্রমানিত।

তাহাজ্জুদ নামাজের সঠিক সময়:
.
তাহাজ্জুদ নামাজের সর্বোত্তম সময় হলো, শেষ রাত তথা সাহরী খাওয়ার সময় । বিশেষত রাতের অবশিষ্ট এক তৃতীয়াংশে তাহাজ্জুদ পড়া উত্তম।
.
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আমাদের রব দুনিয়ার আসমানে অবতীর্ণ হন এবং বলেন ডাকার জন্য কেউ আছে কি, যার ডাক আমি শুনবো? চাওয়ার জন্য কেউ আছে কি, যাকে আমি দেব? গুনাহ থেকে মাফ চাওয়ার কেউ আছে কি, যার গুনাহ আমি মাফ করব?’’ [বুখারি, আস-সহিহ: ১০৯৪; মুসলিম, আস-সহিহ ১৮০৮]
.
তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়ের পদ্ধতি বা নিয়ম
.
তাহাজ্জুদের নামাজের বিশেষ কোনো নিয়ম নেই। সাধারণ সুন্নাত বা নফল নামাজের মতই এই নামাজ পড়তে হয়। তবে, চাইলে এটি দুই রাকাত করেও আদায় করা যায় আবার চার রাকাত করেও আদায় করা যায়। চার রাকাত করে আদায় করলে, যোহরের ফরজের পূর্বের চার রাকাত সুন্নাতের মতো করে পড়তে হয়। বিশেষ কোনো সূরা দিয়ে এই নামাজ পড়তে হয় না। এটি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ নফল নামাজ।
.
তাহাজ্জুদ নামাজ কয় রাকাত :
.
তাহাজ্জুদের নামাজ সর্বনিম্ন ২ রাকাত থেকে শুরু করে ৪, ৬, ৮, ১০ রাকাতও পড়া যায়। এটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত। [আবু দাউদ, আস-সুনান: ১৩৫৭ ও ১৩৬২; আহমাদ, আল-মুসনাদ: ২৫১৫৯]
.
তবে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাধারণ আমল ছিলো, তিনি অধিকাংশ সময় রাতে ৮ রাকাত তাহাজ্জুদের নামাজ পড়তেন। [বুখারি, আস-সহিহ: ১১৪৭]

৩/ কুরআন তিলাওয়াত ও রুকইয়াহ

আরবি মাসসমূহের মধ্যে ‘মাহে রমজান’ অন্যতম শ্রেষ্ঠ। এই শ্রেষ্ঠত্বের অন্যতম কারণ বা মাধ্যম পবিত্র কুরআন শরীফ। এই রমজানেই আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রিয় হাবিবের উপর সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানীগ্রন্থ কুরআন শরীফ নাযিল করেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘রমজান এমন একটি মাস যার মধ্যে কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে।’ (সূরা বাকারা : ১৮৫) দেখুন, এই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা রমজানের পরিচয়ই দিচ্ছেন কুরআনের মাধ্যমে। তাই স্পষ্টত কুরআন শরীফ অবতীর্ণের মাধ্যমেই মাহে রমজানের ফজিলত বেড়েছে বহুগুণে। হাদিস শরীফে এসেছে, “অন্যান্য মাসসমূহে যে আয়াতসমূহ অবতীর্ণ হতো রমজান মাসে সব একসাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম জিবরাইল আলাইহিস সালামকে শোনাতেন। আবার জিবরাইল আলাইহিস সালাম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লামকে শোনাতেন। এভাবে পরস্পর কুরআন শরীফ তেলাওয়াত করতেন।” (বুখারী ও মুসলিম শরীফ)

কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অত্যাধিক সাওয়াব লাভ করার জন্য রমজানই হচ্ছে মোক্ষম সময়। কুরআন শরীফের বিশেষত্ব হচ্ছে, একটি হরফ তেলাওয়াতে দশটি নেকি হাসিল হয়। রমজানের বিশেষত্ব হচ্ছে, একটি নেকি দশ থেকে সাতশত পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। এখন ধরুন আপনি মাহে রমজানে কুরআন শরীফের একটি হরফ তেলাওয়াত করলেন। দশটি নেকি পেলেন। অতঃপর রমজানের কারণে তা দশ থেকে সাতশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এবং রমজানের কারণেই এই নফল ইবাদতটি আল্লাহর দরবারে ফরযের মর্যাদায় গণ্য হচ্ছে। সুতরাং, যারা মাহে রমজানে কুরআন শরীফ তেলাওয়াত করেন নিঃসন্দেহে তারা অফুরন্ত-অগণনীয় সাওয়াবের অধিকারিই হয়ে থাকেন। ‘রমজান ও কুরআন’ এই দুইয়ের বিশেষত্বকে এক সুথোয় গাঁথা যায় শুধুমাত্র একটি মাধ্যমে। তা হলো, ‘রমজান মাসে কুরআন তেলাওয়াত করা’।

টার্গেট থাকতে হবে এই রমাদানে নূন্যতম ৩ থেকে ৫ টি কুরআন তিলাওয়াতের খতম দিবো ইনশা আল্লাহ….

রুকইয়াহ :

যখন আপনি কুরআন তিলাওয়াত করবেন তখন অবশ্যই কুরআন তিলাওয়াতের রুকইয়াহ্ এর নিয়তে করবেন। এবং তিলাওয়াত করার সময় আপনি সামনে রুকইয়াহ এর সাপ্লিম্যান্ট গুলো সামনে রেখে তিলাওয়াত করবেন। নিয়ত থাকবে আপনার জ্বীন যাদু আইন হাসাদ সিহিরের গিট ও সিহির ধ্বংস এবং সুস্থতার নিয়তে তিলাওয়াত করা।

আপনার রুকইয়াহ এর প্রয়োজনীয় কিছু সাপ্লিম্যান্টের লিস্ট :

(১) পানি

পরিমান হলো নূন্যতম ৫ থেকে ১০ লিটার বা তার কমবেশি একটি পানির বোতল। পানি গুলো জমজম কূপের পানি বা বৃষ্টির পানি কিংবা সাধারণ টিউবওয়েলের পানি হলে ও হবে।

(২) তৈল

পরিমান মতো এক্সর্টা ভার্জিন অলিভ তৈল ( অলিভ হলে সবচেয়ে ভালো)। যদি সংগ্রহ না থাকে তাহলে যে কোনো ভোজ্য জাতীয় তৈল যেমন খাটি সরিষার তৈল, কালোজিরার তৈল, তিসির তৈল, বাদামের তৈল, নিমের তৈল, তিলের তৈল নানা ধরনের তৈল সংগ্রহ করে রাখতে পারেন।

(৩) মধু

অথেনটিক যে কোনো “র, কোয়ালিটি মধু যেমন বরই ফুলের মধুসহ নানা ধরনের খাটি মধু প্রয়োজন অনুপাতে সংগ্রহ করবেন।

(৪) খেজুর

জ্বীন যাদুর প্রভাব থেকে মুক্তির জন্য ভালো প্রিমিয়াম কোয়ালিটির আজুওয়া খেজুরের বিকল্প কিছু নেই। যেমন হাদিসে এসেছেন
রাসুল (সা.)-এর প্রিয় ফল ছিল খেজুর। এর উপকারিতা অপরিসীম। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালবেলা সাতটি আজওয়া (উৎকৃষ্ট) খেজুর খাবে, সেদিন কোনো বিষ ও জাদু তার ক্ষতি করবে না। (বুখারি, হাদিস : ৫৪৪৫)

আপনার প্রয়োজন অনুপাতে আজুওয়া খেজুর সংগ্রহ করুন।

(৫) কালোজিরা

কালোজিরাও হাদীসে আলোচিত একটি মহাঔষধ। আবু হুরায়রাহ (রা.), থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেনঃ কালিজিরায় মৃত্যু ব্যতীত সব রোগের নিরাময় আছে। ‘আস-সাম’ অর্থ মৃত্যু, হাব্বাতুস সাওদা অর্থ কালিজিরা।
(ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৩৪৪৮)

কালোজিরা বা কালোজিরার তৈল আপনার প্রয়োজন অনুপাতে সংগ্রহ রাখুন।

উপরের বস্তুু গুলো সংগ্রহ করুন আপনার প্রয়োজনীয় অনুপাতে, অতপর সেগুলো কে সামনে রেখে উক্ত নিয়তে কুরআন তিলাওয়াত করুন। এবং কয়েক আয়াত বা পৃষ্ঠার বৃহত্তম কিছু অংশ শেষ করে, উক্ত বস্তুু গুলোর মাঝে ফুক দেন। অতপর এগুলো কে ব্যবহার করুন উপযুক্ত সময়ে….

৪/ ★দুআ★দুরুদ★ ইস্তিগফার★ দান সাদকাহ ★

★দুআ : রমাদান মাস আল্লাহর পক্ষ থেকে মুমিনের জন্য বিশেষ উপহার। এ মাসে আল্লাহ তার বান্দাদের জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের দুয়ার খুলে দেন এবং প্রতিটি নেক কাজের প্রতিদান বৃদ্ধি করেন। বান্দার প্রতি তার করুণা ও অনুকম্পা অধিক পরিমাণে বাড়িয়ে দেন।

রমাদানের এসব কল্যাণ লাভে বিশেষ তিনটি সময়ের কথা হাদিসে এসেছে। যখন বান্দার প্রতি আল্লাহর করুণাধারা বর্ষিত হয়। অথচ না জেনেই অনেকে সময়গুলো অবহেলায় কাটিয়ে দেয়।

এক. রমদানে ফজরের পর দোয়া কবুল হয়

রমাদান মাসে ফজরের পর বেশির ভাগ মানুষ ঘুমিয়ে থাকে। অথচ ইবাদত-বন্দেগি ও দোয়ার জন্য সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মহানবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করে, তারপর সূর্য ওঠা পর্যন্ত বসে বসে আল্লাহর জিকির করে; এরপর দুই রাকাত নামাজ আদায় করে তার জন্য একটি হজ ও একটি ওমরার সাওয়াব রয়েছে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৫৮৬)

ইমাম নববী (রহ.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই দিনে আল্লাহকে স্মরণ করার সবচেয়ে উত্তম সময় ফজরের পর।’ (আল আজকার, পৃষ্ঠা ১৫৫)

বিজ্ঞ আলেমরা বলেন, ফজরের পর আল্লাহ জীবিকা বণ্টন করেন। তাই এ সময় ঘুমানো অপছন্দনীয়। বিশেষত রমজান মাসে, যখন আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহের দুয়ার উন্মুক্ত করে দেন এবং প্রতিটি নেক কাজের প্রতিদান বৃদ্ধি করেন।

দুই. ইফতারের আগ মুহূর্ত দোয়া কবুল হয়

ইবাদত ও দোয়া কবুলের বিবেচনায় সূর্যাস্ত তথা ইফতারের পূর্ব মুহূর্ত খুবই মূল্যবান। পূর্বসূরি আলেমরা ইফতারের আগের সময়টুকু দোয়া ও আল্লাহর জিকিরে মগ্ন থাকতেন। কেননা মহানবী (সা.) বলেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না; ন্যায়পরায়ণ শাসক, রোজাদার যখন সে ইফতার করে এবং অত্যাচারিত ব্যক্তির দোয়া।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৭৫২)

কিন্তু আমাদের সমাজের বেশির ভাগ মানুষ এ সময় ইফতার প্রস্তুত করার কাজে ব্যস্ত থাকে। বিশেষত নারীরা আজানের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত কাজে লেগে থাকেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিন. রমাদানে শেষ রাতে দোয়া

আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য শেষ রাতের ইবাদত-বন্দেগি, দোয়া ও প্রার্থনার কোনো বিকল্প নেই। পবিত্র কোরআনে এ সময়ের দোয়া ও প্রার্থনার প্রশংসা করা বলা হয়েছে, ‘তারা ধৈর্যশীল, সত্যবাদী, অনুগত, ব্যয়কারী এবং শেষ রাতে ক্ষমাপ্রার্থনাকারী।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৭)

নবী (সা.) বলেন, ‘রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকতে আমাদের প্রতিপালক পৃথিবীর আকাশে নেমে আসেন এবং বলেন—কে আমাকে ডাকবে আমি তার ডাকে সাড়া দেব, কে আমার কাছে চাইবে আমি তাকে দান করব, কে আমার কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করবে আমি তাকে ক্ষমা করব।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১১৪৫)

তাই রোজাদারের উচিত, সাহরির আগে বা পরে তাহাজ্জুদ আদায়ে সচেষ্ট হওয়া এবং এ সময় আল্লাহর দরবারে ক্ষমা ও কল্যাণ প্রার্থনা করা।

শুধু এই তিন সময় নয়; বরং মুমিন তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর ইবাদত ও জিকিরে সজীব করে তোলে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সুতরাং তারা যা বলে, সে বিষয়ে আপনি ধৈর্য ধারণ করুন এবং সূর্যোদয়ের আগে ও সূর্যাস্তের আগে তোমার প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করুন; রাতে পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করুন এবং দিনের প্রান্তগুলোতেও, যাতে আপনি সন্তুষ্ট হতে পারেন।’ (সুরা ত্বহা, আয়াত : ১৩০)

উপরের বর্ণীত সময় গুলো তে বেশি করে দুআ করা, যেনো মহান আল্লাহ তাআলা আপনাকে এই রমাদানের বরকতে পূর্ন সুস্থতার নিয়ামত দান করেন। জ্বীন যাদুগ্রস্ত প্রতিটি ব্যক্তিকে যেনো আল্লাহ তাআলা মুক্তি দান করেন। আমীন

★দরুদ :

এই পবিত্র মাসে দুরুদের প্রতি প্রচুর আমল করা। দরুদ শরীফ গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল। এ আমলের মাধ্যমে একসঙ্গে আল্লাহ ও তার রাসূলের সন্তুষ্টি পাওয়া যায়। এটি মুমিনের আত্মার খোরাক এবং প্রিয় তাসবিহ। পবিত্র কোরআনেও এর ব্যাপক তাগিদ রয়েছে। দরুদ শরীফ পাঠ আমাদের প্রিয় নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ। মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালার প্রিয় হাবীব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম এর ওপর দরুদ পড়তে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দেন।

আল্লাহ তায়াল পবিত্র কোরআনুল কারিমে বলেন, إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا অর্থ: ‘নিশ্চয়ই আমি (আল্লাহ) স্বয়ং এবং আমার ফেরেস্তারা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওপর দরুদ পাঠ পূর্বক সালাম প্রেরণ করিয়া থাকি; হে মুমিনরা! তোমরাও তাঁহার ওপর দরুদ পাঠ কর এবং সালাম প্রেরণ কর। ’ (সূরা: আহযাব, আয়াত: ৫৬)।

রাসূলুল্লাহ (সা.) এর প্রতি মুহব্বত নিয়ে দরুদ পাঠ করা উত্তম ইবাদত। রাসূল (সা.) নিজেও দরুদ পাঠ করার জন্য তাঁর উম্মতদের বলেছেন, রাসূল (সা.) দরুদ পাঠের ফজিলত ও মাহাত্ন্য উম্মতদের জানিয়ে দিয়েছেন।

মহানবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পড়ে, আল্লাহ তায়ালা তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন। ’ (সহিহ মুসলিম)।

দরুদ শরিফ পাঠ করলে সহজে দোয়া কবুল হয়ে যায়। হজরত ওমর বিন খাত্তাব (রা.) বলেন, নিশ্চয় বান্দার দোয়া-মোনাজাত আসমান ও জমিনের মাঝখানে ঝুলানো থাকে, তার কোনো কিছু আল্লাহপাকের নিকট পৌঁছে না যতক্ষণ না বান্দা তার নবীর (সা.) প্রতি দরুদ পাঠ করবে। (তিরমিজী শরিফ)।

সুতরাং দুআ কবুলের জন্য দরুদের প্রতি আমল করা বাধ্যতামূলক।

★ইস্তিগফার :

রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস রমাদান। বিশেষত রমাদানের শেষ দশক নাজাত বা মুক্তির। এ মাসের আমলগুলোর মধ্যে তওবা ও ইস্তিগফার গুরুত্বপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তারা ক্ষতিগ্রস্ত হলো, যারা রমজান পেল কিন্তু নিজেদের গুনাহ ক্ষমা করাতে পারল না, জাহান্নাম থেকে নাজাত পেল না।’ তওবা, ইস্তিগফার ও ক্ষমা প্রার্থনার জন্য বিশেষ কিছু আমল রয়েছে। রমাদান মাসে যে আমলগুলো বেশি বেশি করতে বলা হয়েছে, এর মধ্যে অন্যতম হলো জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণ চাওয়া, জান্নাত কামনা করা, ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করা, দরুদ শরিফ পাঠ করা, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ জিকির করতে থাকা।

৫ টি তওবা ও ইস্তিগফারের দোয়া

❇ দোয়া-১:

মূল আরবীঃ أَستَغْفِرُ اللهَ
উচ্চারণঃ আস্তাগফিরুল্লা-হ।
অনুবাদঃ আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
প্রতি ওয়াক্তের ফরয সালাতে সালাম ফিরানোর পর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এই দোয়া ৩ বার পড়তেন। [মিশকাত-৯৬১]

❇ দোয়া-২:

মূল আরবীঃ أَسْتَغْفِرُ اللهَ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণঃ আস্তাগফিরুল্লা-হা ওয়া আতূবু ইলাইহি।
অনুবাদঃ আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি ও তাঁর দিকে ফিরে আসছি।
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) প্রতিদিন ৭০ বারের অধিক তাওবা ও ইসতিগফার করতেন। [বুখারী-৬৩০৭]

❇ দোয়া-৩:

মূল আরবীঃ أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণঃ আস্‌তাগফিরুল্লা-হাল্লাযী লা- ইলা-হা ইল্লা- হুওয়াল হাইয়্যুল কইয়্যূম ওয়া আতূবু ইলায়হি।
অনুবাদঃ আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, তিনি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী এবং তাঁর কাছে তাওবাহ্ করি।

এই দোয়া পড়লে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিবেন-যদিও সে যুদ্ধক্ষেত্র হতে পলায়নকারী হয়। [আবু দাউদ-১৫১৭, তিরমিযী-৩৫৭৭, মিশকাত-২৩৫৩]

❇ দোয়া-৪:

মূল আরবীঃ رَبِّ اغْفِرْ لِيْ وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ (أنْتَ) التَّوَّابُ الرَّحِيْمُ / الغَفُوْرُ
উচ্চারণঃ রাব্বিগ্ ফিরলী, ওয়া তুব ‘আলাইয়্যা, ইন্নাকা আনতাত তাওয়া-বুর রাহীম। দ্বিতীয় বর্ণনয় “রাহীম”-এর বদলে: ‘গাফূর’।
অনুবাদঃ হে আমার প্রভু, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার তাওবা কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি মহান তাওবা কবুলকারী করুণাময়। দ্বিতীয় বর্ণনায়: তাওবা কবুলকারী ও ক্ষমাকারী।

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) মসজিদে বসে এক বৈঠকেই এই দোয়া ১০০ বার পড়েছেন। [আবূ দাঊদ-১৫১৬, ইবনু মাজাহ-৩৮১৪, তিরমিযী-৩৪৩৪, মিশকাত-২৩৫২]

 

দোয়া-৫: (সাইয়েদুল ইস্তিগফার-বা আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাওয়ার শ্রেষ্ঠ দুআ:

মূল আরবীঃ اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা আনতা রব্বী লা-ইলাহা ইল্লা আনতা খালাক্কতানী ওয়া আনা আ’বদুকা ওয়া আনা আ’লা আহ্দিকা ওয়া ও’য়াদিকা মাসতাত’তু আ’উযুবিকা মিন শার্রি মা ছা’নাতু আবূউলাকা বিনি’মাতিকা আ’লাইয়্যা ওয়া আবূউলাকা বিযানবী ফাগ্ফির্লী ফাইন্নাহু লা-ইয়াগফিরুয্যুনূবা ইল্লা আনতা

অনুবাদঃ হে আল্লাহ তুমিই আমার প্রতিপালক। তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমারই গোলাম। আমি যথাসাধ্য তোমার সঙ্গে প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারের উপর আছি। আমি আমার সব কৃতকর্মের কুফল থেকে তোমার কাছে পানাহ চাচ্ছি। তুমি আমার প্রতি তোমার যে নিয়ামত দিয়েছ তা স্বীকার করছি। আর আমার কৃত গুনাহের কথাও স্বীকার করছি। তুমি আমাকে মাফ করে দাও। কারন তুমি ছাড়া কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারবে না।

এই দোয়া সকালে পড়ে রাতের আগে মারা গেলে অথবা রাতে পড়ে সকালের আগে মারা গেলে সে জান্নাতে যাবে। [বুখারী-৬৩০৬]

এ সকল দুআ ছাড়াও কুরআন ও হাদীসে আল্লাহর তাআলা নিকট ক্ষমা প্রার্থনার আরও বিভিন্ন দুয়া বর্ণিত হয়েছে। সেগুলো পড়ার চেষ্টা করতে হবে। এমনকি নিজের ভাষায় নিজের মত করে মহান আল্লাহর নিকট নিজের অপরাধগুলো তুলে ধরে ক্ষমা প্রার্থনা করলেও তিনি ক্ষমা করবেন ইনশাআল্লাহ।

★দান সাদকাহ

দানকে আরবিতে বলা হয় সদকা, এর অর্থ হলো সত্য। প্রকৃত প্রস্তাবে দান–সদকার মাধ্যমে ব্যক্তির অন্তরের বিশ্বাসের অবস্থার সত্যিকারের সত্যায়ন হয়। হাদিস শরিফে রয়েছে, ‘মানুষের মধ্যে উত্তম সে ব্যক্তি, যে মানুষের উপকার করে।’ (তাবরানি)। ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) মানুষের মধ্যে সবচেয়ে কল্যাণকামী ও শ্রেষ্ঠ দাতা ছিলেন, আর রমাদান এলে তিনি সবচেয়ে বেশি দান করতেন; জিবরাইল (আ.)–এর আগমন হলে তিনি প্রবাহিত বাতাসের মতো দান–খয়রাত করতেন।’ (মুসলিম: ২৩০৮)।

নিয়ত করেন রমাদানে সাধ্যমতে প্রতিদিন দান সাদকাহ করবো, প্রয়োজনে ১ টাকা করে হলে ও দান সাদকাহ করবো সুস্থতার নিয়তে।

৫/ ইফতার ও সাহরি

ইফতারের সময় রুকিয়ার পড়া পানি পান করবেন প্রয়োজনে শরবতের সাথে মিক্স করে পান করবেন। এবং সম্ভ্যব হলে আজওয়া খেজুর খাবেন। তৈলাক্ত খাবার বর্জন করুন, ভেজাল ফর্মালিন তৈল মুক্ত ইফতারি খাবেন, এমন ভাবে ইফতারি করবেন না যেনো আপনার বাকি সারা রাত পেট খারাপ হয়ে অসুস্থ হয়ে যান, অর্থ্যাৎ পেট ভরপুর করে ইফতার করা পরিহার করুন। ইফতার থেকে নিয়ে সাহরি পর্যন্ত আপনার প্রয়োজনীয় রুকিয়া অডিও ক্লিপ কিংবা সুরা বাকরাহ শোনতে পারেন। সাহরির শেষ সময়ের পূর্বে প্রয়োজন অনুপাতে রুকিয়ার পড়া পানি পান করতে পারেন।

৬/ গোসল

রমাদানে গোসল শরির কে অনেক ক্লান্ত দুর দেয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় ঠান্ডা বা হালকা কুসুম গরম পানিতে বরই পাতার গোসল করতে পারেন।
বরইপাতার গোসল সংক্রান্ত বিস্তারিত পোস্টের লিংক থেকে পড়ুন…
বিঃদ্রঃ – রোযারত অবস্থায় বরই পাতার গোসলের পানি পান করা নিষিদ্ধ যদি কেহ ইচ্ছাকৃত ভাবে পান করে ফেলে তাহালে কিন্তুু রোযা ভঙ্গে হয়ে যাবে। সুতরাং গোসলের সময় এই বিষয়টির ব্যাপারে সতর্ক থাকুন, গোসল করুন কিন্তুু পানি পান করা থেকে বিরত থাকুন….

৭/ পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা

পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকুন সব সময়। ময়লাযুক্ত কাপড় পরিধান করা থেকে বিরত থাকুন, ভালো পরিস্কার কাপড় পড়ুন এবং সুগন্ধি যুক্ত আতর ব্যবহার করুন। ইবাদতে যেনো অলসতা না আসে সেজন্য দলবদ্ধ ভাবে ইবাদাতে অংশগ্রহন করুন।

৮/ শরির খারাপ লাগলে কুরআন তিলাওয়াত শোনেন, বা অর্থ সহ কুরআন তিলাওয়াত করুন, কিংবা ভালো ইসলামিক স্কলার বক্তব্য শোনেন, অথবা ভালো হালাল নাশীদ শোনতে পারেন। দুপুরের পর প্রয়োজনে একটু ঘুম দিতে পারেন। সর্ব সময়ে নিজেকে ব্যস্ততার মাঝে অতিবাহিত করবেন। এবং গোনাহ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখবেন।

৯/ সমস্যা বৃদ্ধি হলে : রুকইয়াহ সম্পর্কে ভালো অভিজ্ঞ রাকি সাহেবের ফলো আপে থাকুন, প্রয়োজনে ওনার নিকট থেকে সাহায্য সহযোগিতা গ্রহন করুন।

মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের এই রমাদানের বরকতে গোনাহ গুলো মাফ করুন, এবং সমস্ত জ্বীন যাদুগ্রস্ত মানুষদের সহ সকল অসুস্থত ব্যক্তিদের কে সুস্থতার নিয়ামত দান করুন।

✅সাদকাহ এর নিয়তে লেখাটি বেশি করে শেয়ার করুন।
আপনার অপর মুসলীম ভাই বোনকে জানার সুযোগ করে দেন।

জাযাকুমুল্লাহ খাইর

🔸

এপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার নিয়মঃ
.
নূন্যতম ৩ দিন আগে কল দিয়ে সিরিয়াল বুক করতে হয়। তবে খালি থাকা সাপেক্ষে ইমার্জেন্সী সিরিয়াল তথা যেদিনের সিরিয়াল সেদিনও মোবাইলে যোগাযোগ করে দেওয়া যায়।
কল দিবেন সকাল ৮ টা থেকে রাত ৮ টার মধ্যে নিম্নোক্ত নম্বরে।
     .
📞 01763 951  371
📞  01833 406 632
    .

সেন্টারের লোকেশনঃ
.
  রোড ১৯, বাসা ৫৫ (২য় তলার বামপাশে) রুপনগর আবাসিক, মিরপুর-২, ঢাকা ১২১৬
.
 গুগল ম্যাপ লোকেশন:
https://maps.app.goo.gl/2qvFjeqWHSvdxG2M9
.
.
সোশ্যাল মিডিয়া:
.
❇️ টেলিগ্রাম: https://t.me/quranictreatmentbd
❇️মেসেঞ্জার: 📮 http://m.me/QuranicTreatmentBd
❇️ফেসবুক  : https://www.facebook.com/QuranicTreatmentBD/
❇️ ইউটিউব:  https://youtube.com/@QuranicTreatmentBD/
❇️ ট্রেনিং গ্রুপ: https://www.facebook.com/groups/833450798461695/ 
❇️ পেশেন্টদের রিভিউ:  https://www.facebook.com/groups/623845769646953/
❇️  রুকইয়াহ সাজেশন: https://www.facebook.com/groups/QuranicTreatmentBD/
.

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *